প্রেমপত্র

প্রেমপত্র

তোমাকে আর লিখতে ইচ্ছে হয়না,
লিখে কী হবে বলো!
মনের গহীনে ভীষন ইচ্ছে ছিলো
আমি শুধুই পত্রলেখক হবো।
দিনভর তোমাকে প্রেমপত্র লিখবো
নীল রঙের রুলটানা সুগন্ধি কাগজে।
গুটিকয় বর্ণে জীবনের স্বপ্ন একে
তোমার দুই আঙুলের ফাকে ধরিয়ে দেবো।

তুমি মিষ্টি একটা হাসি দিতে
দেখা যায় কি যায় না,
চকিতে আটভাজ করা চিঠিটা
লুকিয়ে নিতে বুকের ভাজে।
আমি কী বোকা! ভাবতাম আমাকেই
পরম যত্নে বুকের মাঝে স্থান দিলে!
বুকের কাছে রেখেও কী অবলীলায়
অযুত স্বপ্নের কথামালা দূরেই রেখে দিলে!

স্বপ্ন তো স্বপ্নই, হৃদয়েশ্বরী,
তোমাকে পাবার আগেই চলে গেলে!
কী নিষ্ঠুর তুমি, মর্ত্যের মানুষ ফেলে
চলে গেলে নক্ষত্রবীথির আহবানে!
নাহয় আমিও তারা হতাম তোমার সাথে, জোড়া তারা। আমাদের প্রাণখোলা হাসিতে,
আমাদের মৈথুনে থাকতাম একসাথে।
অন্ধকারের গানে পারতাম আমরা সংগী হতে।

পারতে না আমায় সাথে নিতে?
খুব নিষ্ঠুর তুমি!
বুঝলেই না আমার ভালোবাসা।
পাজর থেকে হৃদয় বের করে দেখালে আসবে মর্ত্যে?
বললে তাও দেখাবো, তোমার আশায়
কিন্তু তোমাকে আর লিখবো না

🌫️

যা কিছু মিথ্যে ভাবতে চাই, সব কিছু সত্যি করে তুমি দূরে চলে গেলে। আমাকে এমন একলা ফেলে চলে গেলে! আমার চারিদিক আবার শুন্য হয়ে গেল। তুমি তো বলেছ সেদিন তুমি এখনো আমায় ভালোবাসো। ভালো হয়তো বাসো, কিন্তু আমার সাথে সংসার করা যায়না, তাইনা? এজন্যই তুমি আমাকে এভাবে একলা ফেলে চলে গেলে! সংসার করার যোগ্য নই আমি, জানি। জানতাম। কিন্তু, ভেবেছিলাম তুমি হয়তো তেমন ভাববেনা। আমি যেমন তেমন ই ভালোবাসবে আমাকে! ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে থাকবে! ভালোবেসে হয়তো আমাকে পাল্টেও দেবে! ওহ! আমি তো আবার কথা শুনিনা! হাহাহা! কিন্তু, আমি যদি সত্যিই সংসার করার যোগ্য না হই, তাহলে আর আমাকে যোগ্য ভাববেই বা কি করে? সবার সব কথা যে সত্যি তুমি তা প্রমাণ করে দিলে! এই যে অন বলে আমার সাথে কার মিলবে, ও তো সত্যিই বলে! তুমি আরো সত্যি করে দিলে!

কি আর করবো, বলো? হ্যাঁ! অহংকার বেশি বলে নিজেকে আর পাল্টাব ও না! এভাবেই একলা, ভীষণ একলা কাটিয়ে দেব আমার জীবন। প্রেম কি আর সবার কপালে সয়? আমি অভাগিনী, প্রেমের কাঙাল, আদরের কাঙাল হয়েই কাটিয়ে দেব বাকি জীবন। আমরণ কাঙাল রেখে গেলে আমায়!

তুমি তো আর ফিরবেনা! এই মেয়েটা কেমন আছে জানবেনা! এই সুন্দর হাসির আড়ালে এই কষ্টের জীবনটা লুকিয়ে ভালোই থাকবো! ভালোই থাকবো!

💔💔

একদিন হয়তো দূরে সরে যেতেই হবে! এই বেদনা নিয়ে যে আর থাকতে পারছিনা!

সব ভুলে থাকতে চাই। তুমি তো পারছো, আমাকেও পারতে হবে।

কেন স্বপ্ন দেখালে? কেন এভাবে হারিয়ে দিলে আমাকে? তোমাকে খুব ভালোবাসাটা এত অপরাধ হয়ে গেল? আমাকে তো মেরে ফেলেছো তুমি।  তুমি ঠিক ই থাকতে পারবে! আমি বোধহয় অনর্থক তোমায় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছি! তুমি বোধহয় ঠিক ই পারবে আমাকে ছেড়ে থাকতে। কষ্ট তো হবেই তোমার প্রথম প্রথম। আমার বোধহয় তোমাকে সেই কষ্ট সয়ে নেয়ার সময় দেয়া উচিৎ।

জানো? বুঝতে পারিনা! মায়া এসে ভর করে! দ্বিধায় পরে যাই! ফিরে ফিরে আসি। তোমার জন্যই। এত ভয় লাগে তোমার শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে! কিন্তু, কারুর জন্য কি আসলে কিছু থেমে থাকে!? হাহাহা! আমার জন্যও কিছু থেমে থাকবেনা তোমার। কষ্ট পাবে অনেক হয়তো, হয়তো অসুস্থ ও হয়ে পড়বে, তাও জীবন ঠিক ই বয়ে যাবে! জীবন যে! আমারও ব্যতিক্রম হবেনা। বেঁচে থাকবো ঠিক ই! হাহাহা।

আহা, জীবন! আহারে প্রেম! এভাবে নি:শেষিত হলাম!?

হ্যাঁ, আমার তো সব ই আছে! সন্তান, পরিবার! আমিও এসব ভাবি।  সত্যি, আমিও ভাবি তুমি কি নিয়ে বাঁচবে!? পাগল আমি! বাঁচবে হয়তো কিছু নিয়ে! মরতে যখন পারবেনা, বেঁচে থাকার অবলম্বন ও কিছু না কিছু একটা বের করে ফেলবে! এত ভাবি কেন তোমাকে নিয়ে? কেন এত দুশ্চিন্তা হয়? কেন ভাববো এত তোমার মন নিয়ে? আমার মনটা নিয়ে তো কই তুমি ভাবোনা!

অবশ্য, তুমি ভাবোনা এই বা কি করে বলি? তুমি তো যা করছ সব আমার ভালো ভেবেই করছ। হাহাহা। হয়তো একদিন আরো ভালোভাবে বুঝবো! হয়তো বুঝবো আমার জন্য তোমার ত্যাগ স্বীকার! আচ্ছা? যার জন্য ত্যাগ স্বীকার করছো, সেই যদি ভিতর থেকে মরে যায়, তার জন্য ত্যাগ স্বীকার সার্থক হবে তো? হয়তো হবে! তুমি তো আর না ভেবে কিছু করনা!

হায় প্রেম! হায়! 

💔💔💔

কি যে ভালোবাসি তোমায়, জান, তুমি জানোনা। জীবনটা হঠাৎ ই থেমে গেলো। শরীরে কোনো প্রাণ নেই, এমন বোধ হচ্ছে। মরবনা। মরা অত সহজ নয়, কিন্তু বেঁচে থাকাও যে কি কঠিন হয়ে গেল, কি যে কঠিন হয়ে গেল, তুমি জানোনা।

তোমারো খুব কষ্ট হচ্ছে, জানি। কাল রাতে যখন ওভাবে কাঁদছিলে, আমার বুকটা দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে আসছিলো। মনে হচ্ছিলো ছুট্টে গিয়ে তোমাকে বুকে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরি। উফ, জান! আমার বুকটা ভেঙে আসছে, বাবু! তুই যে কি কষ্ট পাচ্ছিস, তোকে যে আমি এত কষ্টের ভেতর ঠেলে দিলাম, বাবু! আমি তোকে নিজের হাতে মেরে ফেল্লাম রে! আমি একটা খুনী। আমি একটা খুনী।

তোকে আমি ঘৃণা করিনা রে, বাবু, করিনা। আমি তো পাষাণ হয়ে গেছি, তাইনা? হায় জীবন! তোকে এত ভালোবাসলাম, আর তোকেই নিজ হাতে শেষ করে দিলাম? উফ! কি যে যন্ত্রণা, উফ!

💔

এই বাবু! জান আমার! তোকে যে কি ভালোবাসি, তুই জানিস ই না! প্রতি মুহুর্তে অপেক্ষা করি তোর জন্য – খুব কি অস্বাভাবিক শোনায়? হয়তো অস্বাভাবিক ই!

তবুও তোকে বলবোনা, জানাবোনা তোর জন্য কেমন অপেক্ষায় দিন কাটে আমার। জানাবোনা কখনোই। এই যে কত ঝগড়া হয়ে যায়, রাগ-অভিমান-ভুল বোঝাবুঝি হয়, তাও কেমন তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করে থাকি তোমার জন্য তুমি জানোইনা! কখন সব ভুলে আমাকে বুকে টেনে আদর করে দেবে, জড়িয়ে ধরে রাখবে, আবার অনেক অনেক কথা বলবে সেই অপেক্ষায় থাকি। জানো তুমি এসব? জানোনা। শুধু দেখ আমার রাগ, আমার চুপ করে থাকা। তোমার জন্য যে আকুল-ব্যাকুল হয়ে থাকে আমার মন তুমি জানোইনা। বা, হয়তো জানো ঠিক ই। আমি জানিনা!

আমি ই আসলে জানিনা!

কিন্তু, এটুকুতো জানি যে আমি তোমাকে পাগলের মত ভালোবাসি! মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি! ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, শুধুই ভালোবাসি। আর তোমার ভালোবাসা চাই। পাই, বা না পাই, চাই।

💔💔💔

কি যে ভালোবেসেছি তোমায় শুধু আমি ই জানি। আর জানেন আল্লাহ। কেন যে এতো ভালোবেসেছি তা আমি জানিইনা। আমার শুধু মনে আছে তোমার প্রতি আমি অনুভব করতাম তীব্র আকর্ষণ। মনে হত যেন এই মানুষটিকে আমি অনন্তকাল ধরে চিনি, যেন এই আকর্ষণ বহু, বহু, বহু বছরের পুরাতন। তোমার জন্য আমার অস্থির লাগতো, তখনো তো প্রেম জমেনি, তবুও সেই তখন থেকেই লাগতো। তুমি যেন শুধুই আমার, শুধুই আমার – এমনটা লাগে সেই প্রথম থেকেই! তোমাকে না পাওয়ার বেদনাও যেন সেই প্রথম থেকেই! সে বেদনা থেমে নেই, উপরন্তু, বেড়ে চলছে যেন অবিরত! সে বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না! যেমন হয়তো প্রকাশ করতে পারিনা আমার ভালবাসা তোমার প্রতি!

কেন এমন লাগে বলতে পারো? কেন এতো নিবেদিত লাগে নিজেকে তোমার প্রতি? কেন মনে হয় তোমাকে সব উজাড় করে দেই? কেন তোমার জন্য দুশ্চিন্তা তাড়া করে ফেরে? কেন বুকটা দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে যায় তুমি বিহনে? কেন সমস্ত শরীর বেদনাক্লিষ্ট হয়? কেন প্রাণহীণ লাগে তোমাকে ছাড়া? জানো?

তোমাকে খুব ভালোবাসি, ফারুক! খুউব! ভালোবাসবো আজীবন! তুমি হয়তো জানতেই পারবেনা কখনো! হয়তো তোমার জানার প্রয়োজন ই নেই! প্রয়োজন হবেও না হয়তো কখনো! তবু, ভালোবেসে যাব, না হয় নাই জানলে! জানতেই হবে কথা নেই যে!

উম্মা, জান। অনেক আদর রে বাবু তোর জন্য। অনেক। ভালোবাসি।